Dhaka ০৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপিও শিক্ষকদের বেতন বাড়ার ইঙ্গিত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ Time View


নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কি না—এ প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সারাদেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতনও সেই কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার কথা।’

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পেলেও তা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তারা পান না। এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনুদান হলেও সেটি সরকারই দেয়। শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন গ্রেড রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের মূল বেতন বাড়ার কথা।’

শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তবে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে তারা পাবেন মূল বেতনের ১৫ শতাংশ, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এছাড়া চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থেকে যাবে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মাসে ৫০০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ সুবিধা পাবেন না।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ ভাতা পান না। একইভাবে তাদের কোনো বিনোদন ভাতাও নেই, যেখানে সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পেয়ে থাকেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা পান। এটি বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই শিক্ষা ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত প্রযোজ্য। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা নেই।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

এমপিও শিক্ষকদের বেতন বাড়ার ইঙ্গিত

Update Time : ০৫:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কি না—এ প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সারাদেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতনও সেই কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার কথা।’

তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পেলেও তা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয় এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তারা পান না। এ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনুদান হলেও সেটি সরকারই দেয়। শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন গ্রেড রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের মূল বেতন বাড়ার কথা।’

শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তবে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে তারা পাবেন মূল বেতনের ১৫ শতাংশ, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এছাড়া চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বৈষম্য থেকে যাবে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে মাসে ৫০০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ সুবিধা পাবেন না।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এ ভাতা পান না। একইভাবে তাদের কোনো বিনোদন ভাতাও নেই, যেখানে সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পেয়ে থাকেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা পান। এটি বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই শিক্ষা ভাতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত প্রযোজ্য। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা নেই।





Source link