আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সংবেদনশীল উপকূলীয় অঞ্চল ও বিশাল সমুদ্রসীমায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উপকূলঘেঁষা জেলা, দুর্গম দ্বীপ ও চরাঞ্চলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য ৮টি জেলার উপকূলীয় ২৩টি উপজেলা এবং ২টি সিটি করপোরেশনের মোট ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রয়োজনীয় কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ হাজারের বেশি নৌসদস্য সক্রিয়ভাবে মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন বিবেচনায় নিয়ে নদী, সমুদ্র, খাল ও মোহনায় সমন্বিত টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা নাশকতার ঝুঁকি না থাকে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় সমুদ্রপথে অবৈধ অস্ত্র বা ব্যক্তির অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জলসীমায় সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্য অর্জনে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, ভোলা ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বুধবার কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ এলাকা পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় তিন স্তরের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাহিনীটি। প্রথম স্তরে যুদ্ধজাহাজ, গানবোট ও স্পিডবোট দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সমুদ্র ও উপকূলে নিয়মিত টহল চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহজনক নৌযানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্তরে দুর্গম দ্বীপ ও চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোর কাছে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় স্তরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা কেন্দ্র দখলের খবর পাওয়ামাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনেও বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে নৌবাহিনী।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নজরদারি আরও আধুনিক করা হয়েছে। রাডার, মেরিটাইম সার্ভেইল্যান্স, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং কোস্টাল স্টেশন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সমুদ্রপথের প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও হাতিয়ার মতো দুর্গম স্থানে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে তাঁরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেন্টমার্টিনের ফরোয়ার্ড ঘাঁটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মহিউদ্দিনও দ্বীপবাসীদের নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।




















