আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে পেশিশক্তি নয় বরং তথ্য এবং জনমতের সামাজিক চাপ ব্যবহার করেই তিনি রাজনৈতিক দাপট মোকাবিলা করবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, অন্যায়ের ঘটনাগুলোকে পাবলিক রেকর্ডে পরিণত করাই হবে তার মূল প্রতিবাদের পথ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হলেও রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ বা ‘নেতা’দের দাপট থামানো সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় পেশিশক্তির প্রয়োজন হয় না, বরং অন্যায়ের রাজনৈতিক মূল্য বা ‘পলিটিক্যাল কস্ট’ বাড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
তার মতে, যারা দাপট দেখাতে অভ্যস্ত তারা জনসম্মুখে নিজেদের কুকীর্তি প্রকাশ বা ‘পাবলিক এক্সপোজার’-কে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। যখন কোনো অন্যায়ের ঘটনা নিখুঁতভাবে নথিবদ্ধ বা ডকুমেন্ট করে সাধারণ মানুষের সামনে আনা হয়, তখন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মীদের সামলে রাখতে বাধ্য হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি অপরাজনীতি রুখতে চান।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের দুটি শক্তিশালী হাতিয়ারের কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। প্রথমত, তথ্য বা এভিডেন্স কীভাবে যথাযথভাবে সংগ্রহ ও উপস্থাপন করতে হয়, সে বিষয়ে তার প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সেই সত্যকে কোনো মাধ্যম বা ভায়া মিডিয়া ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো বিশাল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তার নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন, পেশিশক্তি দিয়ে সাময়িক দাপট দেখানো সম্ভব হলেও তথ্য ও জনমতের তৈরি করা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করার সাধ্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেই।
জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রতিটি অনিয়মকে জনসম্মুখে আনবেন যাতে সেগুলো স্থায়ী পাবলিক রেকর্ডে পরিণত হয়। তিনি দাবি করেন, দুনিয়ার সবচেয়ে নিষ্ঠুর একনায়ক শাসকরাও শেষ পর্যন্ত জনমতের এই শক্তিকে পরাজিত করতে পারেনি।
সৎ থেকে এবং তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ঢাকা-৯ আসনে একটি আদর্শিক পরিবর্তন আনতে চান। তার এই ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
























