Dhaka ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬ Time View


নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতো বড় পরিসরে ডিপ্লয়মেন্ট এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখন পর্যন্ত ভোটকে ঘিরে বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি বলেও জানান ইসি কমিশনার।

ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সকল আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পেপার পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন তারা। 

বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন মাঠে থাকার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে— ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে— ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি— ২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।

সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। 

ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি, ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে— মাত্র ২ জন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। 

ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে ইসি জানিয়েছে।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম

Update Time : ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতো বড় পরিসরে ডিপ্লয়মেন্ট এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখন পর্যন্ত ভোটকে ঘিরে বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি বলেও জানান ইসি কমিশনার।

ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সকল আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পেপার পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন তারা। 

বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন মাঠে থাকার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে— ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে— ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি— ২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।

সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। 

ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি, ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে— মাত্র ২ জন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। 

ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে ইসি জানিয়েছে।





Source link