Dhaka ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনগণকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা গণস্বার্থের পরিপন্থী: ফরহাদ মজহার

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬ Time View


চট্টগ্রামে বন্দর ইজারাকে গণস্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করে নেওয়া উচিত। কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে অবহিত না করে বন্দর ইজারা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বন্দর সুরক্ষা কমিটির আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফরহাদ মজহার এ মন্তব্য করেন। সভায় বন্দরের শ্রমিক, আলোচক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, “প্রশ্ন হলো, আমরা স্বচ্ছভাবে জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কি না। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি চলতে দেওয়া ঠিক নয়। বিদেশি কোম্পানি বন্দর নিলে তারা শুধু মুনাফা করবে, বিপদের সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একসঙ্গে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধু আমলার একতরফা গ্রহণযোগ্য নয়। গণসার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের সার্বভৌমত্বের নামে ক্ষমতা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে যাচ্ছে।”

ফরহাদ মজহার বন্দরকে দেশের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, কিন্তু বন্দর অচল হলে তা বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। তাই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন ও মো. হুমায়ুন কবীর।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, “বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে গেলে ৮০০ কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং দেশি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”

মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “কৃত্রিমভাবে আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ আছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা থাকলেও চুক্তি হচ্ছে অন্য কোম্পানির সঙ্গে, যার বোর্ড ও কাঠামো অজানা। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চুক্তির পূর্ণ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।”





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

জনগণকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা গণস্বার্থের পরিপন্থী: ফরহাদ মজহার

Update Time : ০১:৫১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


চট্টগ্রামে বন্দর ইজারাকে গণস্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করে নেওয়া উচিত। কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে অবহিত না করে বন্দর ইজারা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বন্দর সুরক্ষা কমিটির আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফরহাদ মজহার এ মন্তব্য করেন। সভায় বন্দরের শ্রমিক, আলোচক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, “প্রশ্ন হলো, আমরা স্বচ্ছভাবে জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কি না। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি চলতে দেওয়া ঠিক নয়। বিদেশি কোম্পানি বন্দর নিলে তারা শুধু মুনাফা করবে, বিপদের সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একসঙ্গে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধু আমলার একতরফা গ্রহণযোগ্য নয়। গণসার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের সার্বভৌমত্বের নামে ক্ষমতা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে যাচ্ছে।”

ফরহাদ মজহার বন্দরকে দেশের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, কিন্তু বন্দর অচল হলে তা বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। তাই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন ও মো. হুমায়ুন কবীর।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, “বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে গেলে ৮০০ কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং দেশি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”

মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “কৃত্রিমভাবে আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ওপর দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ আছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা থাকলেও চুক্তি হচ্ছে অন্য কোম্পানির সঙ্গে, যার বোর্ড ও কাঠামো অজানা। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চুক্তির পূর্ণ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।”





Source link