ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট এবং ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে দেশের সকল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীকাল থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি আগামী রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলবে। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে পুনরায় নিয়মিত পাঠদান ও শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা ও পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের প্রথম দীর্ঘতম ছুটি এবং বছরের পঞ্চম সরকারি ছুটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ছুটির বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর থাকবে।
সবশেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে অতিরিক্ত আরও একদিনের ছুটি যোগ হওয়ায় এই বিরতি টানা পাঁচ দিনে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের আগের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সাধারণ ছুটি থাকবে যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দীর্ঘ ছুটি একদিকে যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ করে দেবে।
মূলত ভোটকেন্দ্র হিসেবে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হওয়ায় এবং শিক্ষকদের একটি বড় অংশ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এই ছুটির প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য। অভিভাবকরাও এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এতে দূরদূরান্তের ভোটারদের সপরিবারে বাড়ি ফিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সহজ হবে।
উল্লেখ্য যে, নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপন ইতিপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছিল, যা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের জন্য প্রযোজ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে এই ছুটির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ছুটির সময়টিকে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

























