Dhaka ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনমত বাক্সে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষের ৪০ হাজার ‘চিঠি’

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫ Time View


দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের এক বিশাল সংকলন এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পৌঁছেছে। কেউ চেয়েছেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, কেউ আবেদন করেছেন দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। কারও কলমে উঠে এসেছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি, আবার কেউ ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার কথা লিখেছেন। কোনো রাখঢাক ছাড়াই সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে নিজের মতামত জানিয়েছেন ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষ।

‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’-র সঙ্গে রাখা হয়েছিল একটি বিশেষ ‘জনমত বাক্স’, যেখানে হাজারো মানুষের হাতে লেখা টুকরো টুকরো চিরকুট জমা পড়েছে।

ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য। চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি এবং ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি মন্তব্য এসেছে।

ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে গিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

গাজীপুর থেকে রাফা লিখেছেন, ‘আমার পরামর্শ হলো আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন- রাফা, গাজীপুর বয়স: ১০ বছর।’


জনমত বাক্সে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষের ‘চিঠি’

কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন।’

চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কোম্পানির মালিককে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ দিনমজুর করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই। সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।’

বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’

পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলার সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসাথে বাঁচতে সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা চাই।’

দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনীতিতে যে দলই আসুক দিনাজপুরসহ দেশের সংস্কারে যেন সবাই নিয়োজিত থাকে।’

কোনো রকম অস্বস্তি-সংকোচ ছাড়াই সাবলীল, আবেগাপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য সম্পদ। তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং সমালোচনা-নিন্দাও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

জনমত বাক্সে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষের ৪০ হাজার ‘চিঠি’

Update Time : ০২:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের এক বিশাল সংকলন এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পৌঁছেছে। কেউ চেয়েছেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, কেউ আবেদন করেছেন দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। কারও কলমে উঠে এসেছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি, আবার কেউ ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশার কথা লিখেছেন। কোনো রাখঢাক ছাড়াই সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে নিজের মতামত জানিয়েছেন ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষ।

‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’-র সঙ্গে রাখা হয়েছিল একটি বিশেষ ‘জনমত বাক্স’, যেখানে হাজারো মানুষের হাতে লেখা টুকরো টুকরো চিরকুট জমা পড়েছে।

ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য। চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি এবং ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি মন্তব্য এসেছে।

ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে গিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

গাজীপুর থেকে রাফা লিখেছেন, ‘আমার পরামর্শ হলো আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন- রাফা, গাজীপুর বয়স: ১০ বছর।’


জনমত বাক্সে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষের ‘চিঠি’

কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন। শুভেচ্ছান্তে দেওয়ান সালাহউদ্দিন।’

চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কোম্পানির মালিককে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ দিনমজুর করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই। সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।’

বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।’

পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলার সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসাথে বাঁচতে সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা চাই।’

দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা, বৃষ্টি লিখেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনীতিতে যে দলই আসুক দিনাজপুরসহ দেশের সংস্কারে যেন সবাই নিয়োজিত থাকে।’

কোনো রকম অস্বস্তি-সংকোচ ছাড়াই সাবলীল, আবেগাপ্লুত মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য সম্পদ। তাই কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং সমালোচনা-নিন্দাও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।





Source link