আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রণের দিন। ভোটের আর মাত্র এক দিন বাকি। দীর্ঘ ২০ দিন প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত ছিল নির্বাচনি মাঠ। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। এখন চলছে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে জননিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা। ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফেনী-১ আসনের (ফুলগাজী-পরশুরাম- ছাগলনাইয়া) তিন উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে না। সেখানে এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে ১২ প্লাটুন বিজিবি। অন্যদিকে ফেনী-২ (ফেনী সদর) ও ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ফেনীর তিনটি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাতজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে থাকবে পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম, ছয়টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৫ হাজার ৫৬৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবে র্যাব।
বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন জানান, ফেনী-১ আসনের তিন সীমান্তবর্তী উপজেলায় সেনাবাহিনী ছাড়া এককভাবে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ফেনী-২ আসনে ২ প্লাটুন এবং ফেনী-৩ আসনে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবে।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া জানান, ফেনী সদরে ৩ প্লাটুন এবং সোনাগাজী ও দাগনভূঞায় ৬ প্লাটুন সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ফেনী-১ আসনে সেনাবাহিনী থাকবে না, সেখানে বিজিবি দায়িত্বে থাকবে।
র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ফেনীর তিনটি আসনে ছয়টি টহল দলে ৪২ জন র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে তিনটি দলে আরো ৩০ জন সদস্য প্রস্তুত থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশসুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অতীতের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এবার প্রথম বারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে দুই জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিন জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয় জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগে চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুই দিনসহ মোট সাত দিন সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আট দিন। এ হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
আনসার-ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ফেনীর ৪২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫৫৬৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রসহ তিন জন এবং দুই জন সদস্য সুরক্ষা অ্যাপস অ্যান্ড ইউজার হিসেবে সার্বক্ষণিক ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করবে।


























