টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রশাসন ব্যস্ত সংসদ নির্বাচন নিয়ে। এই সুযোগে বংশাই-লৌহজং নদী এবং পাহাড়ে চলছে মাটি চুরির মহোৎসব। কোনো অবস্থায় থামছে না নদী, ফসলি জমি এবং পাহাড়ের লাল মাটি চুরি। পাহাড়ের লাল মাটি চুরির ফলে উজাড় হচ্ছে গাছপালা-বনভূমি। জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে নদী, ফসলি জমি ও জলাশয়ের মাটি চুরি করে ডাম্প ট্রাক দিয়ে বহন করায় এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিনে মির্জাপুর উপজেলার বংশাই- লৌহজং নদীর আশপাশ এবং পাহাড়ি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিদস্যু মাটি চোর চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে নদীর মাটি, বালি এবং পাহাড়ের লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই বংশাই-লৌহজং নদীর তীরের ফতেপুর, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, ত্রিমোহন নদীর ঘাট, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, ওয়াশি, নাগরপাড়া, উফুলকী, গুনটিয়া, মাঝালিয়া, আনাইতারা, বানাইল, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়াসহ বিভিন্ন স্পটে চলছে ফসলি জমি, নদী, খাল, জলাশয়ের বালি ও মাটি চুরির মহোৎসব।
উপজেলার গোড়াই, আজাগানা, তরফপুর, লতিফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ের লাল মাটি চুরি করে কেটে নেওয়ার ফলে এলাকার পরিবেশ এখন বিপন্ন হওয়ার পথে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রটি দিনে ও রাতের আঁধারে উপজেলার তেলিনা মধ্যপাড়া, আজাগানা, গোড়াই, নাজিরপাড়া, পালপাড়া, ক্যাডেট কলেজ, সৈয়দপুর, মহিষবাথান, সিটমামুদপুর, টাকিয়াকদমা, হাটুভাঙ্গাসহ ২০-২৫টি স্পটে পাহাড়ের লাল মাটির টিলা কেটে নিচ্ছে। দিন-রাত পাহাড়ের লাল মাটি কেটে নেওয়ার ফলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্যসহ এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর, সখীপুর ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড় থেকে লাল মাটি চুরি করে কেটে ডাম্প ট্রাক দিয়ে মির্জাপুরে নিয়ে আসছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রশাসন এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি চোর চক্রের সদস্যরা সিন্ডিকেট করে দিনে ও রাতে নদী তীরের বালি, মাটি এবং পাহাড়ের লাল মাটি কেটে সাবাড় করছে। চক্রের সদস্যদের মাটি কাটায় বাধা দিলে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচয়ে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পাহাড়ের লাল মাটি রক্ষার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন। লাল মাটি কেটে নেওয়ার খবর পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয় মাটি কাটা বন্ধসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, বংশাই- লৌহজং নদীর আশপাশ এবং পাহাড়ের লাল মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়া বিক্রির অপরাধে ডাম্প ট্রাকসহ এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) জব্দ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে মাটি চোর চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে।

























