Dhaka ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও অনুশোচনামূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি: আসিফ নজরুল

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ Time View


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রশ্নের জবাবে আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকার জন্য অনুশোচনামূলক বক্তব্য দেয়নি। বরং তারা বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল জানান, মতবিনিময় সভায় কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী ফল সব দল মেনে নেবে কি না, সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা আছে কি না, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, গণভোটের পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিল কি না—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই দলের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে আসার জন্য কোনো উদ্যোগ তো দূরের কথা। যেভাবে তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সে জন্য তাদের সিরিয়াস ও সিনিয়র নেতাদের বিচার হচ্ছে। তাদের প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশও হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি বিদেশে বসে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ ও আমাদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার উসকানিও দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।”

ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
“রিকনসিলিয়েশন বা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অপর পক্ষের মনোভাবও বিবেচনায় নিতে হয়,”—যোগ করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের কখনোই মনে হয়নি, তারা সংস্কার, নতুন রাষ্ট্র গঠন কিংবা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো কোনো মানসিকতা বা প্রস্তুতি রাখে। বরং তারা বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করেছিল, সেটার ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চায়।”

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “বহু বছর পর বাংলাদেশে সত্যিকারের একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ পেতে যাচ্ছি। বহু বছর পর সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দলও থাকবে।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা প্রশ্ন করতে ও জবাবদিহির আওতায় আনতে ভয় পায় না। “তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।”

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নারী ভোটারদের ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি নেই। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে আরও বাড়বে।”

সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে গণভোট হবে। মানুষ যেহেতু সংস্কার চায়, তাই আমার ধারণা—গণভোট হলে ‘হ্যাঁ’ পক্ষই বিজয়ী হবে।”





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও অনুশোচনামূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি: আসিফ নজরুল

Update Time : ১০:৫২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রশ্নের জবাবে আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকার জন্য অনুশোচনামূলক বক্তব্য দেয়নি। বরং তারা বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল জানান, মতবিনিময় সভায় কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী ফল সব দল মেনে নেবে কি না, সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা আছে কি না, নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, গণভোটের পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিল কি না—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই দলের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে আসার জন্য কোনো উদ্যোগ তো দূরের কথা। যেভাবে তারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, সে জন্য তাদের সিরিয়াস ও সিনিয়র নেতাদের বিচার হচ্ছে। তাদের প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশও হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি বিদেশে বসে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ ও আমাদের সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার উসকানিও দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে।”

ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
“রিকনসিলিয়েশন বা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অপর পক্ষের মনোভাবও বিবেচনায় নিতে হয়,”—যোগ করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের কখনোই মনে হয়নি, তারা সংস্কার, নতুন রাষ্ট্র গঠন কিংবা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো কোনো মানসিকতা বা প্রস্তুতি রাখে। বরং তারা বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করেছিল, সেটার ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চায়।”

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “বহু বছর পর বাংলাদেশে সত্যিকারের একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ পেতে যাচ্ছি। বহু বছর পর সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দলও থাকবে।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা প্রশ্ন করতে ও জবাবদিহির আওতায় আনতে ভয় পায় না। “তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।”

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নারী ভোটারদের ভয় পাওয়ার মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি নেই। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে আরও বাড়বে।”

সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে গণভোট হবে। মানুষ যেহেতু সংস্কার চায়, তাই আমার ধারণা—গণভোট হলে ‘হ্যাঁ’ পক্ষই বিজয়ী হবে।”





Source link