Dhaka ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


শেষ হয়েছে অপেক্ষার প্রহর। আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত ভোট উৎসব। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকারবঞ্চিত মানুষ উৎসবের আমেজে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় জানাবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট, নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে কোন দল জিতবে? তা নিয়ে চুলচেলা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মূল নজর আওয়ামী লীগ, তরুণ এবং নারী ভোটারের দিকে। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাসও রয়েছে অনেক আসনে। ভোটগ্রহণের আগেই ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা সহকারে শহর ছেড়ে নিজ নিজ আসনে ভোট দিতে হাজির হয়েছেন কর্মজীবী মানুষেরা। সব মিলিয়ে সারা দেশে চলছে উৎসবমুখর নির্বাচনি আবহ। তবে শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় টাকাসহ জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে ইসিতে বিএনপি-জামায়াত পালটাপালটি অভিযোগ দিয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশন ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনিয়ম, বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি বলেছেন, নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত এবং দিনের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সব ভোটারকে অবাধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনকে সর্বজনীন উৎসবমুখর করতে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। সারা দেশের প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেগুলোতে রাখা হচ্ছে নজিরবিহীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্তি ফোর্স। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি শুরু করেছে সেনাবাহিনী। বহিরাগতদের ইতিমধ্যে নির্বাচনি এলাকা পরিত্যাগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। চার দিনের ছুটির কারণে ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। ভোটের জন্য গ্রামে ছুটে চলেছেন ভোটাররা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ইসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে বিমান বাহিনীর মানুষবিহীন বিমান (ইউএভি) দিয়ে মনিটর করা হবে সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি। একই সঙ্গে ভোটের মাঠের লাইভ ফিড প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে প্রদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দিয়াশলাই, লাইটার ও যে কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করায় দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। জরুরি মুহূর্তে ভোটারদের চিকিত্সার জন্য থাকছে রেড ক্রিসেন্টের বিশেষ টিম। এসব ব্যবস্থাপনার পরেও কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। একদম শেষ মুহূর্তে চলছে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিতে একই আলোচনা। তবে যতটুকু খবর পাওয়া গেছে, তাতে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বিএনপির। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই আত্মবিশ্বাসী সরকার গঠনে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোটও আশাবাদী বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোট বেচা-কেনার বিষয়ে প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছাল প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ভোট: ভোটের আগের দিন পর্যন্ত দেশে ও দেশের বাইরে থেকে আসা ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইসি। বলা হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জনের। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ জনের। এদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ভোট দিতে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ জনের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাতে আসা ব্যালট পেপার গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরের দিন আগামীকাল শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। পোস্টাল ভোট নিয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়েল। প্রত্যেকটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকাল ৪টার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে শুধুম সেগুলোই গণনা করা হবে।

৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক: দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এ দুই আয়োজন পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগত পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ২৪০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫১ জন ব্যক্তি নিজস্ব সক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একাদশ, দ্বাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র চার জন। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন সিইসি। সিইসি সেখানে বলেন, স্বচ্ছতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এ নির্বাচনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যাত্রার শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব। তাদের সম্পৃক্ততা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

ভোট মনিটর করবে মানুষবিহীন বিমান: নির্বাচন উপলক্ষে মানুষবিহীন আকাশযান (ইউএভি) দিয়ে ভোটের মাঠ মনিটরিং করা হবে। এ লক্ষ্যে দেশের আকাশ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে এসব আকাশযান। একই সঙ্গে ভোটের মাঠের লাইভ ফিড কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে প্রদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এ সময় তারা বলেন, নির্বাচন সফল করতে বিমান বাহিনী বদ্ধপরিকর। এলক্ষ্যে সারা দেশে বাহিনীটির মোট ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বিমান বাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশে হেলিকপটার, পরিবহন বিমান এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকনেসান্স) ভূমিকায় একাধিক ইউএভি মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ইউএভি আকাশ থেকে ভূমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সে অনুযায়ী মাঠে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। মোতায়েনকৃত ইউএভিগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষায় একটি কৌশলগত সম্পদ, যা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভোটকেন্দ্রে নিষিদ্ধ দিয়াশলাই ও দেশি অস্ত্র: ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা ভোটার দিয়াশলাই, লাইটার কিংবা ধারালো বা ভোঁতা কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটাররা কোনো ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুত্সা রটানো বা মানহানিকর কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে দিয়াশলাই, লাইটার ও দেশীয় ধারালো-ভোতা অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও গোপন কক্ষে (যেখানে ভোট দেওয়া হয়) মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না।

জরুরি সেবায় থাকবে রেড ক্রিসেন্ট: নির্বাচনের মাঠে যে কোনো সহিংসতা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দল মাঠে কাজ করবে বলে জানিয়েছে ইসি। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। চিঠিটি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য সহিংস ও জরুরি পরিস্থিতিতে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান এবং প্রয়োজনে নিরাপদে হাসপাতালে প্রেরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দলসমূহকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দলসমূহকে বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সহায়তা দেবে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ: ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের সময় ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার উক্ত অ্যাপ্লিকেশনের এন্ড-ইউজার হিসেবে কাজ করবেন। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেসপন্ডার (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/সশস্ত্র বাহিনী)-এর মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং অ্যাপ্লিকেশনে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ভোট নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে-ইসি : ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুত্সাহিত করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসি। এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানায়, ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটপ্রদান করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নির্ভয়ে ভোটপ্রদান করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

ভোটার, প্রার্থী, ভোটকক্ষ : এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। এসব কেন্দ্রে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং তিন জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। আজ ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ৬৩ জন এবং বাকি ২০ জন স্বতন্ত্র। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করেছে কমিশন। পরবর্তীতে নতুন তপশিলের মাধ্যমে ভোট আয়োজন করা হবে।





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

Update Time : ০১:২৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


শেষ হয়েছে অপেক্ষার প্রহর। আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত ভোট উৎসব। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকারবঞ্চিত মানুষ উৎসবের আমেজে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় জানাবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট, নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে কোন দল জিতবে? তা নিয়ে চুলচেলা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মূল নজর আওয়ামী লীগ, তরুণ এবং নারী ভোটারের দিকে। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাসও রয়েছে অনেক আসনে। ভোটগ্রহণের আগেই ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা সহকারে শহর ছেড়ে নিজ নিজ আসনে ভোট দিতে হাজির হয়েছেন কর্মজীবী মানুষেরা। সব মিলিয়ে সারা দেশে চলছে উৎসবমুখর নির্বাচনি আবহ। তবে শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় টাকাসহ জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে ইসিতে বিএনপি-জামায়াত পালটাপালটি অভিযোগ দিয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশন ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনিয়ম, বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি বলেছেন, নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত এবং দিনের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সব ভোটারকে অবাধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনকে সর্বজনীন উৎসবমুখর করতে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। সারা দেশের প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেগুলোতে রাখা হচ্ছে নজিরবিহীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্তি ফোর্স। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি শুরু করেছে সেনাবাহিনী। বহিরাগতদের ইতিমধ্যে নির্বাচনি এলাকা পরিত্যাগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। চার দিনের ছুটির কারণে ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। ভোটের জন্য গ্রামে ছুটে চলেছেন ভোটাররা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ইসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে বিমান বাহিনীর মানুষবিহীন বিমান (ইউএভি) দিয়ে মনিটর করা হবে সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি। একই সঙ্গে ভোটের মাঠের লাইভ ফিড প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে প্রদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দিয়াশলাই, লাইটার ও যে কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করায় দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। জরুরি মুহূর্তে ভোটারদের চিকিত্সার জন্য থাকছে রেড ক্রিসেন্টের বিশেষ টিম। এসব ব্যবস্থাপনার পরেও কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। একদম শেষ মুহূর্তে চলছে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিতে একই আলোচনা। তবে যতটুকু খবর পাওয়া গেছে, তাতে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বিএনপির। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই আত্মবিশ্বাসী সরকার গঠনে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোটও আশাবাদী বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ইসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোট বেচা-কেনার বিষয়ে প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছাল প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ভোট: ভোটের আগের দিন পর্যন্ত দেশে ও দেশের বাইরে থেকে আসা ৮ লাখ ৮৩ হাজার পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইসি। বলা হয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জনের। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ জনের। এদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ভোট দিতে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ জনের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাতে আসা ব্যালট পেপার গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরের দিন আগামীকাল শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। পোস্টাল ভোট নিয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়েল। প্রত্যেকটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকাল ৪টার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে শুধুম সেগুলোই গণনা করা হবে।

৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক: দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এ দুই আয়োজন পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগত পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ২৪০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫১ জন ব্যক্তি নিজস্ব সক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একাদশ, দ্বাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র চার জন। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন সিইসি। সিইসি সেখানে বলেন, স্বচ্ছতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এ নির্বাচনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব অনুমোদনের প্রক্রিয়া যথাযথ যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যাত্রার শুরু থেকেই স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব। তাদের সম্পৃক্ততা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

ভোট মনিটর করবে মানুষবিহীন বিমান: নির্বাচন উপলক্ষে মানুষবিহীন আকাশযান (ইউএভি) দিয়ে ভোটের মাঠ মনিটরিং করা হবে। এ লক্ষ্যে দেশের আকাশ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে এসব আকাশযান। একই সঙ্গে ভোটের মাঠের লাইভ ফিড কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে প্রদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এ সময় তারা বলেন, নির্বাচন সফল করতে বিমান বাহিনী বদ্ধপরিকর। এলক্ষ্যে সারা দেশে বাহিনীটির মোট ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। বিমান বাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশে হেলিকপটার, পরিবহন বিমান এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকনেসান্স) ভূমিকায় একাধিক ইউএভি মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ইউএভি আকাশ থেকে ভূমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সে অনুযায়ী মাঠে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। মোতায়েনকৃত ইউএভিগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষায় একটি কৌশলগত সম্পদ, যা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভোটকেন্দ্রে নিষিদ্ধ দিয়াশলাই ও দেশি অস্ত্র: ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা ভোটার দিয়াশলাই, লাইটার কিংবা ধারালো বা ভোঁতা কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটাররা কোনো ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুত্সা রটানো বা মানহানিকর কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে দিয়াশলাই, লাইটার ও দেশীয় ধারালো-ভোতা অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও গোপন কক্ষে (যেখানে ভোট দেওয়া হয়) মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না।

জরুরি সেবায় থাকবে রেড ক্রিসেন্ট: নির্বাচনের মাঠে যে কোনো সহিংসতা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দল মাঠে কাজ করবে বলে জানিয়েছে ইসি। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। চিঠিটি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য সহিংস ও জরুরি পরিস্থিতিতে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান এবং প্রয়োজনে নিরাপদে হাসপাতালে প্রেরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দলসমূহকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিত্সা দলসমূহকে বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সহায়তা দেবে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ: ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের সময় ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত সহায়তা প্রাপ্তির জন্য ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার উক্ত অ্যাপ্লিকেশনের এন্ড-ইউজার হিসেবে কাজ করবেন। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাত্ক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেসপন্ডার (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/সশস্ত্র বাহিনী)-এর মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং অ্যাপ্লিকেশনে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ভোট নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে-ইসি : ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুত্সাহিত করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসি। এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানায়, ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটপ্রদান করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নির্ভয়ে ভোটপ্রদান করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

ভোটার, প্রার্থী, ভোটকক্ষ : এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। এসব কেন্দ্রে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং তিন জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন। আজ ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ৬৩ জন এবং বাকি ২০ জন স্বতন্ত্র। ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করেছে কমিশন। পরবর্তীতে নতুন তপশিলের মাধ্যমে ভোট আয়োজন করা হবে।





Source link