বরিশাল-৩ আসনের এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, নির্বাচন যদি প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তিনি পরাজয় বরণ করতেও দ্বিধাবোধ করবেন না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। ব্যারিস্টার ফুয়াদ উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুন্দর থাকলেও জনমনে কিছুটা শঙ্কা ও ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া তিনি নির্বাচন বর্জনের পক্ষে নন বরং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে চান।
সারাদেশে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা গণভোটের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
প্রযুক্তির ব্যবহারে এবার ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি); প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। এ ছাড়াও যেকোনো অনিয়ম দ্রুত জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং ৩৩৩ হটলাইন সেবা চালু রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন ভোটারও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবারই প্রথম বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালটের মধ্যে ইতিমধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে, যা চূড়ান্ত গণনার সময় মূল ভোটের সঙ্গে যোগ করা হবে।
২০০৮ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ৮০ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সরাসরি মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন হওয়ায় বিশ্ববাসীর নজর এখন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে যে, ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গণনা সম্পন্ন হবে এবং ফলাফলের বিবরণী তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে। ধাপে ধাপে ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশালসহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেমন ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে, তেমনি একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরুর প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।





















