নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফল কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই সুস্পষ্ট। এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটা পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল, আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল যখন ঘোষণা করার সময় হয়েছে, ওই সময়টাতে স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) অনেকগুলো আসনকে টার্গেট (লক্ষ্য) করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় নির্বাচন-পরবর্তী ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
নাহিদ জানান, ফলাফল বদলে দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকের ঢাকা-১৩ আসন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা-৮ আসন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের আসন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এ রকম সুনির্দিষ্ট কয়েকটা আসনকে টার্গেট করে সেটার ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোকে দখল করে, জোর করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেই ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-এর দিকে ইঙ্গিত করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘যেই প্ল্যানের কথা আমরা শুনেছি, আমরা সেই প্ল্যানের একটা বাস্তবায়ন বা সেই প্ল্যানের একটা স্বরূপ এই নির্বাচনে দেখতে পাচ্ছি।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্বাচনের মতো ফলাফল কারচুপির প্রচেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ফলাফল কারচুপি করে যারা পুরোনো আমলে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বাচন করেছে, সেই ধরনের প্রচেষ্টা আমরা যাদের ভেতরে দেখতে পাচ্ছি—তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে? কী রকম দেশ পরিচালনা করবে, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে।’
নির্বাচনের পরদিনই ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর সারা দেশে হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘যারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপরে সারা দেশে নির্বিচারে হামলা, বাড়িঘরে আগুন লাগানো, হুমকি এবং এলাকা ছাড়া করছে, তাদের কাছে এই দেশের জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে এবং সেটার জন্য আমরা ১১ দল কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’
প্রয়োজনে রাজপথে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে আমরা সেটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, এই দেশের মানুষকে—যারা ১১ দলের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছে, নেতা-কর্মী, সমর্থক—তাদেরকে হেফাজত করা, তাদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।’

























