Dhaka ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘কালোজাদুর’ চর্চার অভিযোগ, ভারতে নারী ও তার শিশু সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ Time View


জাদুটোনা চর্চা করার অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক নারী এবং তার ১০ মাস বয়সী ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর স্বামীকেও আক্রমণ করা হয়েছে যিনি এখন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ডের কুদসাই গ্রামে মা ও তার সন্তানকে হত্যার এ ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে প্রায় ৫০টি মাটির ঘরের একটি প্রত্যন্ত উপজাতির বসতি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, তারা আরও জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজছে। এদিকে, অভিযুক্তরা হেফাজতে রয়েছে এবং এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

গ্রামে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার কারণে এই সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদন বলছে। যার মধ্যে রয়েছে হঠাৎ গবাদি পশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুর গুজব।

বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, যখন তার স্বামী উদ্বেগ এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তখন একজন অনানুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। যে গ্রামে ডাক্তার থাকে না সেখানে এটি প্রচলিত। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন যে তার স্বামী কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন না।

কেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, তাই তাকে এতদূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।’

এদিকে, গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জ্যোতি সিঙ্কু জাদুবিদ্যা অনুশীলন করছিলেন এবং লোকটির অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্তুন বিরুয়া মারা যান। হাসপাতালে ভর্তি জ্যোতির স্বামী কোলহান সিঙ্কুর মতে, সেই রাতে পাঁচজন নারীসহ প্রায় এক ডজনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তার স্ত্রী ও সন্তানকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের বিছানা থেকে সেই ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি হাত জোড় করে গ্রাম পরিষদে বিষয়টির সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু আক্রমণকারীরা আমার কথা শোনেনি।’

কোলহান সিঙ্কু এবং পরিবারের অন্য সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে, জেলা পুলিশ হত্যা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করেছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার জন্য একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ‘ডাইনি’ সন্দেহে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী।

মঙ্গলবার জ্যোতি সিঙ্কু এবং তার ছেলের হত্যার ঘটনাটির কয়েকমাস আগে একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে।
 
প্রতিবেশী বিহার রাজ্যে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ডাইনি চর্চার অভিযোগে নির্মমভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
 
প্রতিবেদন বলছে, এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই সুবিধাবঞ্চিত উপজাতি সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় ঘটে থাকে। যেখানে কুসংস্কার ব্যাপক এবং চিকিৎসা পরামর্শের জন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

‘কালোজাদুর’ চর্চার অভিযোগ, ভারতে নারী ও তার শিশু সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা

Update Time : ০২:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


জাদুটোনা চর্চা করার অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক নারী এবং তার ১০ মাস বয়সী ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর স্বামীকেও আক্রমণ করা হয়েছে যিনি এখন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ডের কুদসাই গ্রামে মা ও তার সন্তানকে হত্যার এ ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে প্রায় ৫০টি মাটির ঘরের একটি প্রত্যন্ত উপজাতির বসতি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, তারা আরও জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজছে। এদিকে, অভিযুক্তরা হেফাজতে রয়েছে এবং এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

গ্রামে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার কারণে এই সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদন বলছে। যার মধ্যে রয়েছে হঠাৎ গবাদি পশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুর গুজব।

বিরুয়ার স্ত্রী জানো বিরুয়া বলেন, যখন তার স্বামী উদ্বেগ এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তখন একজন অনানুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। যে গ্রামে ডাক্তার থাকে না সেখানে এটি প্রচলিত। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন যে তার স্বামী কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন না।

কেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, তাই তাকে এতদূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।’

এদিকে, গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জ্যোতি সিঙ্কু জাদুবিদ্যা অনুশীলন করছিলেন এবং লোকটির অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী।
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্তুন বিরুয়া মারা যান। হাসপাতালে ভর্তি জ্যোতির স্বামী কোলহান সিঙ্কুর মতে, সেই রাতে পাঁচজন নারীসহ প্রায় এক ডজনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তার স্ত্রী ও সন্তানকে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের বিছানা থেকে সেই ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি হাত জোড় করে গ্রাম পরিষদে বিষয়টির সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু আক্রমণকারীরা আমার কথা শোনেনি।’

কোলহান সিঙ্কু এবং পরিবারের অন্য সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে, জেলা পুলিশ হত্যা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করেছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার জন্য একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ‘ডাইনি’ সন্দেহে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী।

মঙ্গলবার জ্যোতি সিঙ্কু এবং তার ছেলের হত্যার ঘটনাটির কয়েকমাস আগে একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে।
 
প্রতিবেশী বিহার রাজ্যে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ডাইনি চর্চার অভিযোগে নির্মমভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
 
প্রতিবেদন বলছে, এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই সুবিধাবঞ্চিত উপজাতি সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় ঘটে থাকে। যেখানে কুসংস্কার ব্যাপক এবং চিকিৎসা পরামর্শের জন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়।