শুরু হয়েছে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ আর বেশি সময় ধরে প্রার্থনার ভেতর দিয়ে মুসলমানরা এ মাসে নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এই এক মাস সারাদিন পানাহারে বিরত থেকে রোজা রাখেন।
আপাতদৃষ্টিতে রোজা সহজ এবং সাধারণ একটি ধর্মীয় আচরণের বিষয় হলেও এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত, যেগুলো নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এরকম কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্সড ইসলামি বিজ্ঞান এবং শারিয়া আইনের ছাত্র শাব্বির হাসান। নিচে সে বিষয়ে তুলে ধরা হলো:
দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়
অনেকের ধারণা, পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়। কিন্তু ইসলামি চিন্তাবিদদের ভাষ্যমতে, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। এ বিষয়ে শাব্বির হাসান বলেন, “অনেক মানুষ অতি সাবধানী।”
এমন মানুষদের জন্য পরামর্শ দিয়ে শাব্বির হাসান বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো হয় অল্প পরিমাণ পেস্ট নিন। মিন্টের গন্ধ কম, এরকম পেস্ট ব্যবহার করুন।’ ভয় পেলে, গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না
অনেক মানুষ মনে করেন, মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা ভঙ্গ হয়। তবে শাব্বির হাসান সবাইকে আশ্বস্ত করে জানান, মুখের লালা পেটে ঢুকলে কোনো অসুবিধা নেই।
শাব্বির হাসান বলেন, ‘মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না- এ বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই, নিজের লালা গলাধঃকরণ করা খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে অবশ্যই রোজা ভাঙে না।’
তবে অন্যের মুখের লালা নিজের মুখে ঢুকলে রোজা থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রোজা পালনের সময় আপনি আপনার সঙ্গীকে চুম্বন করতে পারবেন না, অন্তরঙ্গ হওয়া যাবেনা। মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে সংযত করা। সে কারণেই খাবার, পানীয় বা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে।’
শুধু খাবার অথবা পানি না খেলেই রোজা কবুল হয়ে যাবে
শুধুমাত্র খাবার মুখে দিলে বা পানি পান করলে রোজা ভেঙে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। তবে আরও কিছু আচরণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শাব্বির হাসান বলেন, ‘কিছু অপরাধ জিহ্বা দিয়ে হয়…আপনি যদি দুর্নাম রটান, গুজবে অংশ নেন বা কাউকে গালিগালাজ করেন, তাহলে রোজা কবুল নাও হতে পারে।’
অসাবধানতাবশত কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যায়
কেউ যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলে তিনি বোঝার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলেও তার রোজা বৈধ থাকবে। কিন্তু নামাজের আগে ওজুর সময় যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি খেয়ে ফেলেন, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এ ভুল এড়ানো সম্ভব।
শাব্বির হাসান বলেন, ‘রোজা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে রোজা রেখে ওজু করার সময় গারগল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি শুধু কুলি করে পানি ফেলে দিন।’
ওষুধ সেবন করা যাবে না
আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সঙ্গে দেওয়া যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) বলেছে, রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে।
চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ। সেহরির আগে এবং ইফতারের পর তা খেতে হবে।
শাব্বির হাসান বলেন, ‘প্রথম কথা আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে ভাবতে হবে আপনি রোজা আদৌ রাখবেন কি-না? কোরআনে পরিস্কার বলা আছে, আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।’


























