প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ তিন সচিবকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংযুক্ত করা কর্মকর্তারা হলেন—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে পরিবর্তন আনা হলো।
এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে দুটি শীর্ষ পদ থেকে দুজন কর্মকর্তা সরে যান। তারা হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। পরে চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ছিলেন।
সচিবালয়ের সূত্র বলছে, প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। খালি হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ চারটি সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। চুক্তিভিত্তিক কয়েকজন সচিবের জায়গাতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদেও রদবদল হতে পারে।
একইভাবে পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।
প্রথম ছয় মাসে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পদের ১ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পদে ১৯ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ২৩ জন, গ্রেড-১ পদের ২ জন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের ৫১ জনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরবর্তী সময়েও আরও কয়েকজনকে ওএসডি করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে সচিব ও সমপর্যায়ের পদে অন্তত ১৬ কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে আছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সরকার প্রশাসনে পরিবর্তন আনবে—এটি অস্বাভাবিক নয়। তবে তারা আশা করছেন, অতীতের মতো দলীয়করণ নয়; মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি হবে।
ক্ষমতাসীন বিএনপির ইশতেহারেও ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি এবং কেউ যেন অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।



















