Dhaka ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩ Time View


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মূলত বার্ড ফ্লুর উচ্চমাত্রার প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, মহামারীবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

তালিকায় থাকা ৪০টি দেশের মধ্যে অনেক দেশের ওপর ২০০৪ সাল থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক ঝুঁকি বিবেচনায় তালিকায় নতুন কিছু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, মিশর এবং মিয়ানমারের মতো দেশগুলো। 

এ ছাড়া আরও ১৬টি দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব মূলত ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান ও তুরস্ক থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে থাকে এবং মুরগির মাংসের সিংহভাগ চাহিদা ব্রাজিল থেকে আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, কাঁচা মুরগি ও ডিমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে কোনো বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশকে অবশ্যই একটি সরকারি সনদ প্রদান করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যাতে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে গেছে। পাশাপাশি এসব পণ্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপনা থেকে উৎপাদিত হতে হবে।

বর্তমানে সৌদি আরব তাদের প্রয়োজনীয় মুরগির মাংসের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকেই পূরণ করছে এবং বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। 

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে রপ্তানিকারক দেশগুলোর পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভাইরাস নির্মূলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সূত্র: গালফ নিউজ



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব

Update Time : ০৯:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মূলত বার্ড ফ্লুর উচ্চমাত্রার প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, মহামারীবিষয়ক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই দেশগুলোর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

তালিকায় থাকা ৪০টি দেশের মধ্যে অনেক দেশের ওপর ২০০৪ সাল থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক ঝুঁকি বিবেচনায় তালিকায় নতুন কিছু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, মিশর এবং মিয়ানমারের মতো দেশগুলো। 

এ ছাড়া আরও ১৬টি দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য বা শহর থেকে আংশিক আমদানিতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব মূলত ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান ও তুরস্ক থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে থাকে এবং মুরগির মাংসের সিংহভাগ চাহিদা ব্রাজিল থেকে আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, কাঁচা মুরগি ও ডিমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে কোনো বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশকে অবশ্যই একটি সরকারি সনদ প্রদান করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে যাতে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে গেছে। পাশাপাশি এসব পণ্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপনা থেকে উৎপাদিত হতে হবে।

বর্তমানে সৌদি আরব তাদের প্রয়োজনীয় মুরগির মাংসের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদন থেকেই পূরণ করছে এবং বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। 

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে রপ্তানিকারক দেশগুলোর পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তাদের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভাইরাস নির্মূলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সূত্র: গালফ নিউজ