সমাজের দুস্থ ও অসহায় দরিদ্ররাও যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে জন্য সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার বিধান। ফিতরা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। সাদাকাতুল ফিতর রমজান, রোজা ও ঈদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল।
যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯)
সদকাতুল ফিতর আদায়ের কথা সামনে আসলেই অনেকে জানতে চান, অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া যাবে কি না?
ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েজ এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৫১২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬১, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৯)
জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)
তবে নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। (কিতাবুল আছল : ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬২, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)


























