Dhaka ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডাবের পানি নাকি আখের রস, ইফতারে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২ Time View


দিনভর রোজার পর ইফতারে সবার পাতেই থাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয়। অনেকে খায় লেবুর সরবত আবার অনেকে নানা ফলের রস।

চাইলে ইফতারে পানীয় হিসেবে রাখা যায় ডাবের পানি ও আখের রস—দুটি প্রাকৃতিক, পুষ্টিগুণে ভরপুর পানী। এ দুটির মাঝে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইড্রেশন, ক্যালোরি, চিনির মাত্রা এবং হজম বিবেচনায় ভিন্ন পরিস্থিতিতে একটিকে বেছে নেওয়া উচিত।

ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করে। বিশেষ করে গরমে বা ঘামের কারণে ডিহাইড্রেশন হলে ডাবের পানি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে।

আখের রসেও কিছু খনিজ আছে, কিন্তু ডাবের পানির মতো সমৃদ্ধ ইলেক্ট্রোলাইট নেই, তাই পানিশূন্যতা কাটাতে ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে। রোজা ভেঙে শরীর দ্রুত শক্তি চাইলে আখের রস তাৎক্ষণিক এনার্জি যোগায়, তবে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতা দরকার।

ডাবের পানিতে চিনির পরিমাণ কম, ক্যালোরিও হালকা, তাই স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে এটি বেশি উপযোগী।

রোজার পর অনেকের পেট সংবেদনশীল থাকে। আখের রস বেশি পেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। ডাবের পানি হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় হজমে সমস্যা কম হয়। তাই ইফতারের শুরুতে ডাবের পানি পেটের জন্য আরামদায়ক।পুষ্টিগুণের তুলনা

আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অল্প আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে। ডাবের পানিতে পটাসিয়াম বেশি, যা পেশী ও স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হালকা পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া বা হিটস্ট্রোকের সময় ডাবের পানি উপকারী। তবে যাদের রক্তচাপ কম, তারা অতিরিক্ত ডাবের পানি এড়িয়ে চলবেন।

তাজা আখের রস দ্রুত খাওয়া উচিত। বাইরে কেনার সময় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। ডাবের পানি খোলার পর ৪–৬ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা ঠিক নয়, তবে প্যাকেটজাত ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ও নিরাপদ।

তাই দ্রুত হাইড্রেশন চাইলে ডাবের পানি বেছে নিন। তাৎক্ষণিক শক্তি চাইলে পরিমিত আখের রস উপকারী। সবচেয়ে ভালো উপায়—ইফতারে প্রথমে পানি বা ডাবের পানি দিয়ে শুরু করে পরে সীমিত আখের রস নেওয়া।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

ডাবের পানি নাকি আখের রস, ইফতারে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

Update Time : ১১:৪০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দিনভর রোজার পর ইফতারে সবার পাতেই থাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয়। অনেকে খায় লেবুর সরবত আবার অনেকে নানা ফলের রস।

চাইলে ইফতারে পানীয় হিসেবে রাখা যায় ডাবের পানি ও আখের রস—দুটি প্রাকৃতিক, পুষ্টিগুণে ভরপুর পানী। এ দুটির মাঝে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইড্রেশন, ক্যালোরি, চিনির মাত্রা এবং হজম বিবেচনায় ভিন্ন পরিস্থিতিতে একটিকে বেছে নেওয়া উচিত।

ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করে। বিশেষ করে গরমে বা ঘামের কারণে ডিহাইড্রেশন হলে ডাবের পানি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে।

আখের রসেও কিছু খনিজ আছে, কিন্তু ডাবের পানির মতো সমৃদ্ধ ইলেক্ট্রোলাইট নেই, তাই পানিশূন্যতা কাটাতে ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে। রোজা ভেঙে শরীর দ্রুত শক্তি চাইলে আখের রস তাৎক্ষণিক এনার্জি যোগায়, তবে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সতর্কতা দরকার।

ডাবের পানিতে চিনির পরিমাণ কম, ক্যালোরিও হালকা, তাই স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে এটি বেশি উপযোগী।

রোজার পর অনেকের পেট সংবেদনশীল থাকে। আখের রস বেশি পেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। ডাবের পানি হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় হজমে সমস্যা কম হয়। তাই ইফতারের শুরুতে ডাবের পানি পেটের জন্য আরামদায়ক।পুষ্টিগুণের তুলনা

আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অল্প আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে। ডাবের পানিতে পটাসিয়াম বেশি, যা পেশী ও স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হালকা পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া বা হিটস্ট্রোকের সময় ডাবের পানি উপকারী। তবে যাদের রক্তচাপ কম, তারা অতিরিক্ত ডাবের পানি এড়িয়ে চলবেন।

তাজা আখের রস দ্রুত খাওয়া উচিত। বাইরে কেনার সময় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। ডাবের পানি খোলার পর ৪–৬ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা ঠিক নয়, তবে প্যাকেটজাত ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ও নিরাপদ।

তাই দ্রুত হাইড্রেশন চাইলে ডাবের পানি বেছে নিন। তাৎক্ষণিক শক্তি চাইলে পরিমিত আখের রস উপকারী। সবচেয়ে ভালো উপায়—ইফতারে প্রথমে পানি বা ডাবের পানি দিয়ে শুরু করে পরে সীমিত আখের রস নেওয়া।