Dhaka ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় কিউইরা, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছন্দ ধরে রাখা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪ Time View


আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্বে শুক্রবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটির গুরুত্ব দুই দলের জন্য ভিন্ন হলেও উত্তেজনায় কোনো ঘাটতি নেই। ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের সামনে খোলা আছে শেষ চারের টিকিট— তবে শর্ত একটাই, জিততে হবে এই ম্যাচ।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রেখেছে কিউইরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় হিসাবটা এখন আরও স্পষ্ট— ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনাল। হারলে অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে নেট রানরেট আর পাকিস্তান– শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে।

পুরো টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে ছিল ধীরস্থিরতা ও হিসাবি আগ্রাসন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস দলকে টেনে তোলে। শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রান তুলে ম্যাচে ফেরে তারা। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে থামিয়ে দেয় ১০৭ রানে।

সেই ম্যাচে রাচিন রবীন্দ্রর চার উইকেট শুধু জয়ই নিশ্চিত করেনি, স্পিননির্ভর কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও দেখিয়েছে। ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের দ্রুত শুরু, মাঝের সারিতে গ্লেন ফিলিপসের ধারাবাহিকতা এবং স্যান্টনারের নেতৃত্বে স্পিন আক্রমণ— সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল কিউইরা। লকি ফার্গুসনের গতি ও ম্যাট হেনরির নিয়ন্ত্রণ এই আক্রমণকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি।

অপরদিকে ইংল্যান্ড এই ম্যাচে নামছে নিশ্চিন্ত মন নিয়ে, তবে লক্ষ্য একটাই— জয়ের ধারা ধরে রাখা। পাকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। তিন নম্বরে নেমে ব্রুকের এই শতক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোনো অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি।

এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি তাদের ছয়জন ব্যাটার, ইতোমধ্যে শতাধিক রান করেছেন- যা প্রমাণ করে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা। ফিল সল্টের ঝড়ো ইনিংস, মাঝের সারির স্থিরতা— সব মিলিয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ।

যদিও সাবেক অধিনায়ক জস বাটলার এখনো বড় ইনিংস পাননি, তবু তাকে নিয়ে দলের আস্থা অটুট। বোলিংয়ে জোফরা আর্চারের ধারাবাহিক উইকেট এবং আদিল রশিদ–লিয়াম ডসনের স্পিন জুটি ধীরগতির উইকেটে দারুণ কার্যকর।

কলম্বোর উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিন সহায়ক। তাই দুই দলই স্পিনকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজিয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগের ম্যাচে ১৭ ওভার স্পিন করিয়েছে, ইংল্যান্ডের স্পিনাররাও সমান কার্যকর। দুই দলের ব্যাটাররাই মানসম্পন্ন স্পিনের বিপক্ষে কখনো কখনো ভুগেছে। ফলে মাঝের ওভারগুলোর লড়াই—যেখানে রান তোলা কঠিন এবং উইকেট পড়ার সম্ভাবনা বেশি— সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে পারে।

 



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় কিউইরা, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছন্দ ধরে রাখা

Update Time : ০৬:১৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্বে শুক্রবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটির গুরুত্ব দুই দলের জন্য ভিন্ন হলেও উত্তেজনায় কোনো ঘাটতি নেই। ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের সামনে খোলা আছে শেষ চারের টিকিট— তবে শর্ত একটাই, জিততে হবে এই ম্যাচ।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রেখেছে কিউইরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় হিসাবটা এখন আরও স্পষ্ট— ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনাল। হারলে অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে নেট রানরেট আর পাকিস্তান– শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে।

পুরো টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে ছিল ধীরস্থিরতা ও হিসাবি আগ্রাসন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস দলকে টেনে তোলে। শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রান তুলে ম্যাচে ফেরে তারা। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে থামিয়ে দেয় ১০৭ রানে।

সেই ম্যাচে রাচিন রবীন্দ্রর চার উইকেট শুধু জয়ই নিশ্চিত করেনি, স্পিননির্ভর কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও দেখিয়েছে। ওপেনিংয়ে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের দ্রুত শুরু, মাঝের সারিতে গ্লেন ফিলিপসের ধারাবাহিকতা এবং স্যান্টনারের নেতৃত্বে স্পিন আক্রমণ— সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল কিউইরা। লকি ফার্গুসনের গতি ও ম্যাট হেনরির নিয়ন্ত্রণ এই আক্রমণকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি।

অপরদিকে ইংল্যান্ড এই ম্যাচে নামছে নিশ্চিন্ত মন নিয়ে, তবে লক্ষ্য একটাই— জয়ের ধারা ধরে রাখা। পাকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। তিন নম্বরে নেমে ব্রুকের এই শতক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোনো অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি।

এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি তাদের ছয়জন ব্যাটার, ইতোমধ্যে শতাধিক রান করেছেন- যা প্রমাণ করে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা। ফিল সল্টের ঝড়ো ইনিংস, মাঝের সারির স্থিরতা— সব মিলিয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ।

যদিও সাবেক অধিনায়ক জস বাটলার এখনো বড় ইনিংস পাননি, তবু তাকে নিয়ে দলের আস্থা অটুট। বোলিংয়ে জোফরা আর্চারের ধারাবাহিক উইকেট এবং আদিল রশিদ–লিয়াম ডসনের স্পিন জুটি ধীরগতির উইকেটে দারুণ কার্যকর।

কলম্বোর উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিন সহায়ক। তাই দুই দলই স্পিনকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজিয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগের ম্যাচে ১৭ ওভার স্পিন করিয়েছে, ইংল্যান্ডের স্পিনাররাও সমান কার্যকর। দুই দলের ব্যাটাররাই মানসম্পন্ন স্পিনের বিপক্ষে কখনো কখনো ভুগেছে। ফলে মাঝের ওভারগুলোর লড়াই—যেখানে রান তোলা কঠিন এবং উইকেট পড়ার সম্ভাবনা বেশি— সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে পারে।