কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন থেকে ‘টোকেন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ওসি মারগুব তৌহিদকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওসি মারগুব তৌহিদ এবং তার ভাগিনা নাঈম হাসানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি রিকুইজিশন করা কিংবা মোটরযান আইনে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও দাবি করেন চালকরা।
মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা এ মহাসড়কে চলাচল করে এবং প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া দুই থেকে তিন হাজার পিকআপ ভ্যান ও অন্যান্য পরিবহন থেকে নেওয়া হয় কমপক্ষে এক হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে শুধু একটি থানা এলাকা থেকেই মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক চাঁদা না দিলে গাড়ি রিকুইজিশন করা কিংবা মোটরযান আইনে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হতো।
ভৈরব–ময়মনসিংহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, বটগাছ, মাছ ও জোড়া টিয়া পাখিসহ বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে বিশেষ টোকেন তৈরি করা হয়। এসব টোকেনের মাধ্যমে প্রতি মাসে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। আঞ্চলিক মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় চালকরা বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে সম্মত হন।
গত শুক্রবার মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের সময় ওসি মারগুব তৌহিদের সঙ্গে তার ভাগিনা নাঈম হাসানকে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওসি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নাঈম নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে মারগুব তৌহিদ তাকে নিজের ভাগনে বলে স্বীকার করেন এবং কাজে সহযোগিতার জন্য সঙ্গে রাখার কথা জানান।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওসি মারগুব তৌহিদকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।


























