Dhaka ১২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লামিনে ইয়ামালের হ্যাটট্রিকে বার্সার দাপট, শিরোপা দৌড়ে বাড়ল ব্যবধান

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / ২ Time View


লা লিগার শিরোপা লড়াই যতই জমে উঠছে, ততই নিজেকে আলাদা করে তুলছে বার্সেলোনা। আর সেই পথে নতুন আলো হয়ে উঠলেন ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। তার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে কাতালানরা।

৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সা এখন চার পয়েন্টে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে, যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ কম। ৫১ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটা দূরে তৃতীয় স্থানে আছে ভিয়ারিয়াল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল বার্সা। ২৮ মিনিটে মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন ফারমিন লোপেজ। তার বাড়ানো পাস থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে নিচু শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। গোলটিতে যেমন ছিল গতির ছাপ, তেমনি ছিল নিখুঁত ফিনিশিং।

নয় মিনিট পরই দেখা যায় তার নৈপুণ্যের আসল রূপ। ডান দিক দিয়ে লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একাই কাটিয়ে যান দুই ডিফেন্ডারকে, এরপর দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান জালের ওপরের কোণে— যে গোল দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান পাপে গেইয়ে। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচে ফিরতে পারে ভিয়ারিয়াল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল দিতে হয় তাদের। পাল্টা আক্রমণে ৬৯ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইয়ামাল।

শেষ দিকে মাঠে নেমে গোলের খাতায় নাম লেখান রবার্ট লেভানডোভস্কি। জুল কুন্দের নিচু ক্রস থেকে সহজ ট্যাপ-ইনে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ইয়ামালের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় এবং নিজের গোল— দুটোতেই তিনি ভীষণ খুশি। দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে তার মন্তব্য, বল পায়ে থাকলে তিনি অপেক্ষা করেন ডিফেন্ডারের ভুলের জন্য, তারপর ঠিক করেন কোন দিকে এগোবেন।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, শিরোপা লড়াইয়ে বার্সার মানসিক দাপটেরও প্রকাশ। মৌসুমের শেষভাগে এসে এমন পারফরম্যান্সই ট্রফির ভাগ্য গড়ে দেয়। আর ইয়ামালের মতো তরুণ যখন দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়, তখন ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখতেই পারে কাতালান সমর্থকরা।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

লামিনে ইয়ামালের হ্যাটট্রিকে বার্সার দাপট, শিরোপা দৌড়ে বাড়ল ব্যবধান

Update Time : ০৩:২১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬


লা লিগার শিরোপা লড়াই যতই জমে উঠছে, ততই নিজেকে আলাদা করে তুলছে বার্সেলোনা। আর সেই পথে নতুন আলো হয়ে উঠলেন ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। তার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে কাতালানরা।

৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সা এখন চার পয়েন্টে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে, যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ কম। ৫১ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটা দূরে তৃতীয় স্থানে আছে ভিয়ারিয়াল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল বার্সা। ২৮ মিনিটে মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন ফারমিন লোপেজ। তার বাড়ানো পাস থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে নিচু শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। গোলটিতে যেমন ছিল গতির ছাপ, তেমনি ছিল নিখুঁত ফিনিশিং।

নয় মিনিট পরই দেখা যায় তার নৈপুণ্যের আসল রূপ। ডান দিক দিয়ে লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একাই কাটিয়ে যান দুই ডিফেন্ডারকে, এরপর দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান জালের ওপরের কোণে— যে গোল দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য করে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান পাপে গেইয়ে। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচে ফিরতে পারে ভিয়ারিয়াল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল দিতে হয় তাদের। পাল্টা আক্রমণে ৬৯ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইয়ামাল।

শেষ দিকে মাঠে নেমে গোলের খাতায় নাম লেখান রবার্ট লেভানডোভস্কি। জুল কুন্দের নিচু ক্রস থেকে সহজ ট্যাপ-ইনে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ইয়ামালের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় এবং নিজের গোল— দুটোতেই তিনি ভীষণ খুশি। দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে তার মন্তব্য, বল পায়ে থাকলে তিনি অপেক্ষা করেন ডিফেন্ডারের ভুলের জন্য, তারপর ঠিক করেন কোন দিকে এগোবেন।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, শিরোপা লড়াইয়ে বার্সার মানসিক দাপটেরও প্রকাশ। মৌসুমের শেষভাগে এসে এমন পারফরম্যান্সই ট্রফির ভাগ্য গড়ে দেয়। আর ইয়ামালের মতো তরুণ যখন দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়, তখন ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখতেই পারে কাতালান সমর্থকরা।