Dhaka ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আমি দায়িত্বে থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না’

Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / ২ Time View


সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কতজন গুম হয়েছেন তা বলতে পারবেন না এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেননি।

রোববার (১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ জেরাকালে তিনি বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করি নাই। কারণ, এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারে নাই। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার (১ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন।

এর আগে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর প্রথম দফায় তাকে জেরা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করি নাই। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাই নাই বা তাকে লিখিতভাবে জানাই নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তার নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। এই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তার এরূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করি নাই। উনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সে জন্য তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয় নাই।’





Source link

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

‘আমি দায়িত্বে থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না’

Update Time : ১১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬


সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কতজন গুম হয়েছেন তা বলতে পারবেন না এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেননি।

রোববার (১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ জেরাকালে তিনি বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করি নাই। কারণ, এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারে নাই। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার (১ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন।

এর আগে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর প্রথম দফায় তাকে জেরা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করি নাই। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাই নাই বা তাকে লিখিতভাবে জানাই নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তার নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। এই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তার এরূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করি নাই। উনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সে জন্য তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয় নাই।’





Source link