Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি নির্দেশনা মানছেন না আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা!

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / ২ Time View


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তা মানছেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তা ক্যাম্পাসে নিয়মিত অবস্থান করেন না। তাদের অনেকেই রংপুর থেকে যাতায়াত করেন, ফলে নির্ধারিত সময়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না তারা।

সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯ টায় আদিতমারী উপজেলা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে। ইউএনওর বাংলোর পাশের সরকারী দুটি অফিস। একটি হলো সমাজসেবা কার্যালয় আর একটি হলো মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। এ অফিস দুটো সকাল ৯ টায় ৩০ মিনিটেও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। পরে সংবাদকর্মী আসার খবর পেয়ে ৯টায় ৪০ মিনিটে ওই অফিস দুটোর তালা খোলা হয়েছে।

সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটেও তাকে অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়েও একই চিত্র দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে অফিসে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। 

অফিসের এক কর্মচারী জানান, “স্যার রংপুর থেকে আসেন, তাই একটু দেরি হচ্ছে।” তবে খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, কালীগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

উপজেলা খাদ্য অফিসের পাশের সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ের কক্ষও সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস খোলা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত আমিনুল নামের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছাড়া অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “রমজান মাস, তাই কিছুটা দেরি হতে পারে।” সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কেন—এ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা থাকলেও কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে অফিসে আসেন। দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা যায়। তিনি জানান, রংপুর থেকে সদ্য অফিসে এসেছেন।

অধিকাংশ কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, আমার দায়িত্ব হলো মনিটরিং করা। তিনি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।



Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
.design-developed a { text-decoration: none; color: #000000; font-weight: 700;

সরকারি নির্দেশনা মানছেন না আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা!

Update Time : ০৮:৪৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তা মানছেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তা ক্যাম্পাসে নিয়মিত অবস্থান করেন না। তাদের অনেকেই রংপুর থেকে যাতায়াত করেন, ফলে নির্ধারিত সময়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না তারা।

সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯ টায় আদিতমারী উপজেলা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে। ইউএনওর বাংলোর পাশের সরকারী দুটি অফিস। একটি হলো সমাজসেবা কার্যালয় আর একটি হলো মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। এ অফিস দুটো সকাল ৯ টায় ৩০ মিনিটেও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। পরে সংবাদকর্মী আসার খবর পেয়ে ৯টায় ৪০ মিনিটে ওই অফিস দুটোর তালা খোলা হয়েছে।

সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আল মামুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটেও তাকে অফিস কক্ষে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়েও একই চিত্র দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে অফিসে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। 

অফিসের এক কর্মচারী জানান, “স্যার রংপুর থেকে আসেন, তাই একটু দেরি হচ্ছে।” তবে খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, কালীগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

উপজেলা খাদ্য অফিসের পাশের সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ের কক্ষও সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস খোলা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত আমিনুল নামের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছাড়া অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “রমজান মাস, তাই কিছুটা দেরি হতে পারে।” সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কেন—এ প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা থাকলেও কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে অফিসে আসেন। দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা যায়। তিনি জানান, রংপুর থেকে সদ্য অফিসে এসেছেন।

অধিকাংশ কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, আমার দায়িত্ব হলো মনিটরিং করা। তিনি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।